শার্শায় সাংবাদিক শাকিল তথ্য চাওয়ায়, অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি


shohel rana প্রকাশের সময় : জুন ১৪, ২০২২, ১০:৪০ অপরাহ্ণ /
শার্শায় সাংবাদিক শাকিল তথ্য চাওয়ায়, অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যশোরের শার্শায় এক ইলেক্ট্রিশিয়ান মিস্ত্রি কর্তৃক পল্লী-বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীয় নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা পুর্বক অবৈধভাবে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকের বৈদ্যুতিক মিটার স্থানান্তরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জনাজানি হলে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা ঐ গ্রাহকের মিটার খুলে অফিসে নিয়ে আসে।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোবাইলে মন্তব্য নিতে ঐ ইলেক্ট্রিশিয়ান মিস্ত্রিকে ফোন দিলে সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগিদের মাধ্যমে জানা যায়, পটুয়াখালি জেলা সদরের বাসিন্দা মাসুদুল হক মাসুদ। বৈবাহিক সূত্রের বেশ ধরে কয়েকবছর যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিনের পুত্র মৃত খলিল উদ্দিনের ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছে।

সে এলাকায় ইলেকট্রিশিয়ান মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে। কাজের সুবাদে এলাকার পল্লী-বিদ্যুতের গ্রাহকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পল্লী-বিদ্যুৎ অফিসের দোহায় দিয়ে অবৈধভাবে বহু গ্রাহকের নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। নতুন মিটার সংযোগ ও মিটার স্থানান্তর করতে পল্লী-বিদ্যুৎ অফিসে কোনো প্রকার যোগযোগ না করে নতুন মিটারের টাকা আত্মসাত করছে। মিটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অফিসের কোনো রকম নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নিজেই পল্লী-বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীদের নাম ভাঙ্গিয়ে মিটার স্থানান্তর করে।

জানা যায়, সম্প্রতি নন ইলেকট্রিশিয়ান মিস্ত্রি মাসুদ। ঘরের ইলেকট্রিশিয়ান মিস্ত্রি কাজের সুবাদে পরিচিত লক্ষণপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের সদর আলী ছেলে আবাসিক গ্রাহক অহেদ আলী হিসাব নম্বর ২৮৪-১৭৫০, কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের স্ত্রী আবাসিক গ্রাহক জবেদা খাতুন হিসাব নং- ৩৪০-১০১৫ মিটার নং- ২০৭৭৪৪৩৯, দরিদূর্গাপুর গ্রামের মৃত সামসুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেনের মিটার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ না করে তাদের দোহায় দিয়ে অবৈধভাবে সিএমও ছাড়া মাসুদ নিজেই মিটার স্থনান্তর করে।

মিটার স্থানান্তর করতে প্রতারণার মাধ্যমে অহেদ আলীর ১২শত টাকা, জবেদা খাতুন ৬শত টাকা ও আনোয়ারের নিকট থেকে ১৯শত টাকা গ্রহন করে। বিষয়টি সাড়াতলা এরিয়া অফিসের কর্মীরা জানতে পারলে নিয়ম মেনে মিটার গুলি খুলে অফিসে নিয়ে আসে। এছাড়াও কৃষ্ণপুর গ্রামের শাহিন আলমের ছেলে ওমর ফারুক ৩ হাজার টাকার চুক্তিতে ১হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় । কিন্তু আজও পর্যন্ত মিটার করে দিতে পারেনি । এমনি টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।

এভাবে এলাকার পল্লী বিদ্যুতের সাধারণ গ্রাহকদের মিটার একস্থান হতে অন্যস্থানে স্থানান্তর ও নতুন মিটার পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা পূর্বক অবৈধভাবে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক মাসুদ। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মিটার স্থানান্তর করণ প্রসঙ্গে সাড়াতলা এরিয়া অফিসের মাধ্যমে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- ১, শার্শা জোনাল অফিস বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নন ইলেক্ট্রিশিয়ান মিস্ত্রি মাসুদের নিকট মোবাইল ফোনে দৈনিক সমাজের কথা পত্রিকার সাড়াতলা (শার্শা) প্রতিনিধি বিএম রুহুল কুদ্দুস শাকিলের কাছে মন্তব্য দিতে অস্বীকৃত জানায় এবং বলেন কে অভিযোগ দিয়েছে তাদের নাম বলতে বলেন। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ সহ প্রাণনাশের হুমকি দেন।

শার্শা জোনাল অফিসের (ডিজিএম) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অফিসের লিগ্যাল প্রক্রিয়া ছাড়া মিটার স্থানান্তর করার কোন সুযোগ নাই । নতুন মিটার সংযোগ পেতে অফিসের যথাযথ নিয়মনীতি প্রতিপালন সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয়। যদি কেউ অবৈধভাবে এমন কাজে সংশ্লিষ্ট থাকে তাহলে আমাদের নিকট তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন। আর অবৈধভাবে যে সব মিটার স্থানান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন আছে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে নাভারণ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি ও দৈনিক সমাজের কথার সাড়াতলা (শার্শা) প্রতিনিধি বিএম রুহুল শাকিল কে প্রতারক ইলেক্ট্রিশিয়ান মিস্ত্রি মাসুক কর্তৃক অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে নাভারণ প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষনিক তিব্রনিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। দোষী মাসুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাস্বরুপ থানায় অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।

%d bloggers like this: