সন্তানের মুখ আর দেখা হলো না বাবার!


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুলাই ৪, ২০২২, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ /
সন্তানের মুখ আর দেখা হলো না বাবার!

স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন হওয়ার কথা সকাল ৯টার দিকে। অথচ আলট্রাসনোর রিপোর্ট ছিল পাঁচ কিলোমিটার দূরে গ্রামের বাড়িতে। তাই স্বামী জাহিদ হাসান জুয়েল মোটর সাইকেলযোগে সেই রিপোর্ট আনতে যান। তবে শহর থেকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি যশোরের চৌগাছার মাজালি গ্রামের টেক্সটাইল প্রকৌশলী জাহিদ হাসান জুয়েল (৩২)।

পথে চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া নামক স্থানে একটি পরিবহনকে সাইড দিতে গিয়ে সড়কের পাশে পুঁতে রাখা কংক্রিটের খুঁটিতে আঘাত পান। এই আঘাতে মারাত্মক আহত হন তিনি। স্থানীয়রা উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে সকাল ৮টায় তাঁর মৃত্যু হয়।

রোববার সকাল পৌনে ৭টার দিকে চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, নিহত জাহিদুল উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের মাজালি গ্রামের আব্দুল মালেকের একমাত্র পুত্র। নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, জাহিদুল মারা যাওয়ায় তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন আগামীকাল সোমবার করা হবে।

স্বজনেরা জানান, ঢাকার তেজগাঁও টেক্সটাইল কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে তিনি ফ্রিল্যান্স পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, জাহিদুলের তিন বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় চৌগাছা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছেন। আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু রোগীর সঙ্গে আলট্রাসনো রিপোর্ট না থাকায় স্বামী জাহিদ হাসান সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চৌগাছা শহরের ওই ক্লিনিক থেকে রিপোর্ট আনার জন্য নিজের বাড়ির দিকে রওনা দেন। বাড়িতে যাওয়ার সময় চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসকে সাইড দিতে গিয়ে সড়কের পাশে (বাঁকে) পুঁতে রাখা নিরাপত্তা খুঁটিতে আঘাত পান।

এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। তবে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘নিহতের শরীরে আঘাতের ফলে বাঁ হাত ও পা ভেঙে যায়। এ ছাড়া বুকে গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর মৃত্যু হতে পারে।’

চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

%d bloggers like this: