ময়না–শাহিনুরদের খবর রাখার কেউ নেই


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুলাই ১৪, ২০২২, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ /
ময়না–শাহিনুরদের খবর রাখার কেউ নেই

বরগুনার তালতলী উপজেলা শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে সাগর মোহনায় তেঁতুলবাড়িয়া গ্রাম। এই গ্রামের গৃহবধূ ময়না বেগমের (৪০) ঘরে জোয়ারের পানি উঠেছে। দুপুরের খাবার রান্নার জন্য তিনি চাল ধুয়ে বসে আছেন। তবে ঘরে পানি ওঠায় তিনি রান্না করতে পারছেন না। অপেক্ষায় আছেন, ভাটা শুরু হলে তিনি রান্না শুরু করবেন।

ময়না বেগম আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘তিন দিন ধরে আধা পেট খাবার খেয়ে আমরা দিন কাটাচ্ছি। ঘরদোর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। রান্না করতে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিন দুবার করে জোয়ারের পানিতে সব তলিয়ে যায়।

আমরা রান্না করে খেতে পারি না, ঘরে থাকতে পারি না। রান্নার জন্য চাল ধুয়ে নিয়ে আসতেই দেখি জোয়ারের পানিতে ঘর তলিয়ে গেছে। বাচ্চারা ক্ষুধার জন্য কান্না করছে। কীভাবে তাদের মুখে এখন দুই মুঠ ভাত তুলে দেব?’

১২ জুলাই বরগুনায় পায়রা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভেঙে তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রতিদিন জোয়ারের সময় গ্রামগুলো দুবার করে তলিয়ে যাচ্ছে।

থাকা-খাওয়া নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে আট গ্রামের মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় ১৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে গেছে।

ময়না বেগম বলেন, ‘আমাদের সাহায্যের দরকার নেই, আমাদের বাঁধ দরকার। সরকার যদি সুন্দরভাবে বাঁধ বান্দে (নির্মাণ করে) তাহলে আমরা শান্তিতে বাস করতে পারব। আমরা খেয়ে না খেয়ে আছি—এটা তো কেউ খবর রাখে না।’

ময়না বেগমের প্রতিবেশী শাহিনুর বেগমের ঘরেও হাঁটুসমান পানি। শাহিনুর বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষের দুর্ভোগ কারও চোখে পড়ে না। দিনে জোয়ারের পানি উঠলে কোথাও যেয়ে আশ্রয় নেওয়া যায়। কিন্তু রাতে জোয়ারের পানি উঠলে বিপদ হয়ে যায়। ঘরের সব জায়গায় পানি। রান্না করার মতো অবস্থাও নেই।’

রান্নার চুলাসহ সবকিছু তলিয়ে যাওয়ায় তেঁতুলবাড়িয়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ ঠিকমতো রান্না করতে পারছেন না। জোয়ারের পানি এলেই তাঁরা উঁচু কোথাও গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত বাঁধ মেরামতের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।

রানী বেগম (৪৫) নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের দুই–এক কেজি করে চাল দিয়ে সাহায্য করার কোনো দরকার নেই। দুই কেজি চাল দিয়ে আমাদের কী হবে? আমরা যদি বাড়িতে থাকতে না পারি, তাহলে লাভ কী? আমাদের কোনো জমিজমা নেই। যেটুকু ছিল সেটাও ভেঙে গেছে। এখন দ্রুত বাঁধ ঠিক না করলে বাঁচব না।’

জানতে চাইলে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম সাদিক তানভীর বলেন, পায়রা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি সহায়তা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শুকনা খাবার দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম প্রথম আলোকে বলেন, তেঁতুলবাড়িয়া এলাকার বাঁধটি নদীর ঢেউয়ের আঘাতে বেশ কিছু অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থান জরুরি মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে ওই স্থানে কাজ শুরু হবে।

%d bloggers like this: