সারাদেশে ১২ দিনে সড়কে প্রাণ গেল ৩২৪ জনের


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুলাই ১৭, ২০২২, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ /
সারাদেশে ১২ দিনে সড়কে প্রাণ গেল ৩২৪ জনের

সেভ দ্য রোডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এবারের ঈদযাত্রায় ১২ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৪ জন নিহত হয়েছেন। ৫ থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে ঘটা এক হাজার ৯৫৬টি দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন এক হাজার ৬১২ জন।

আজ রোববার সেভ দ্য রোড তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এবারের ঈদুল আজহার যাতায়াতে প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ মানুষের মধ্যে ৯৬ লাখ মানুষ সড়ক, রেল ও নৌপথে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঈদযাত্রায় দুই থেকে চারগুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে। বাকি ২৯ লাখ মানুষ নিজস্ব বাহন বা অন্য কোনো আরামদায়ক বাহনে যাতায়াত করলেও রেলের ছাদে চড়ে গন্তব্যে গেছেন অর্ধলাখ মানুষ।

এছাড়া মোটরসাইকেলের মুভমেন্ট পাস নামক উদ্ভট সিদ্ধান্তও ছিল এবার। মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির পথে যেতে না পারায় অনেককে অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস, ভাড়ায়চালিত প্রাইভেটকার এমনকি কোরবানির পশু বহনকারী পিকআপ, ট্রাকেও যেতে হয়েছে।

এই সময়ে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর পাশাপাশি নিয়ম না মানা এবং হেলমেট ব্যবহারে অনীহার কারণে ৪১৮টি দুর্ঘটনায় ৫৫ জন নিহত এবং ৩৬৮ আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনার অধিকাংশই বাইক লেন না থাকার কারণে প্রাইভেটকার, ট্রাক, বাস-মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন বাহনের পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার কারণে ঘটেছে। কোনোরকম বিরতি না নিয়ে টানা ট্রাক চালানোর কারণে অসাবধানতা ও ঘুমন্ত চোখে ক্লান্তি থাকায় প্রসূতি মায়ের মতো ৮৮জন নিহত হয়েছেন ৫০২টি দুর্ঘটনায়, আহত হয়েছেন ১৭৪ জন।

অচল রাস্তাঘাট আর সড়কপথে নৈরাজ্যের কারণে ৫১১টি বাস দুর্ঘটনায় ১০২ নিহত এবং ৬৩৬ জন আহত হয়েছেন। পাড়া-মহল্লা-মহাসড়কে অসাবধানতার সঙ্গে চলাচলের কারণে লড়ি, পিকআপ, নসিমন, করিমন, ব্যাটারিচালিত রিকশা, বাইসাইকেল ও সিএনজি দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫২৫টি। এতে ৭৯ জন নিহতের পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৪৩৪ জন।

সেভ দ্য রোডের প্রতিবেদনটিতে আরও উঠে এসেছে, একটি দুর্ঘটনা দেশবাসীকে বেশি নাড়া দিয়েছে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় স্বামী, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তাদের শিশু সন্তান নিহত হলেও বেঁচে আছে দুর্ঘটনার সময় জন্ম নেওয়া নবজাতক।

এছাড়াও ৫ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত নৌপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৯৬টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৭ জন, আহত হয়েছেন ১২৭ জন। প্রায় অর্ধলাখ মানুষ রেলপথে চরম ভোগান্তি সহ্য করে চলাচলে যেমন ভোগান্তি সহ্য করেছেন, তেমনি ছাদ থেকে পড়ে এবং রেল ক্রসিংয়ে ১২২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১১ জন নিহত ও ২১২ জন আহত হয়েছেন। বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে ২৭ জনকে।

সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা জানান, ২৪টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ২১টি টিভি চ্যানেলের পাশাপাশি সেভ দ্য রোডের চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, সেভ দ্য রোডের প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদীসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সক্রিয় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্যে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সেভ দ্য রোডের গবেষণা সেলের তথ্যে পদ্মা সেতুতে গত ১২দিনে ২১টি দুর্ঘটনার কথা উঠে এসেছে। এতে আহত হয়েছেন ২৭ জন।

%d bloggers like this: