বিবৃতি-বক্তৃতায় উত্তপ্ত হচ্ছে দেশের বাতাস


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৫, ২০২২, ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ /
বিবৃতি-বক্তৃতায় উত্তপ্ত হচ্ছে দেশের বাতাস

রাজনীতির মাঠ এখন গরম না হলেও নেতাদের গরম কথাবার্তায় উত্তপ্ত হচ্ছে বাতাস। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিদিনই কথার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। ওবায়দুল কাদের ইট ছুঁড়লে মির্জা ফখরুল পাটকেল ছুঁড়ছেন। একজন কথার বোমা ছুঁড়লে অন্যজন কথার মিশাইল ছুঁড়ছেন। দুই নেতা প্রতিদিন সভায় বক্তৃতা করছেন, সেখানে কথা শেষ না হওয়ায় বিভিন্ন ইস্যুতে বিবৃতি দিয়ে মিডিয়া গরম করছেন। দুই নেতার সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুই দলের অন্যান্য নেতারাও প্রতিদিন কথার বোমা ফাটাচ্ছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, কোনো বাধাই আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা সরকারের পতন ঘটাতে রাজপথের আন্দোলনে এগিয়ে যাবই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শকুনের (বিএনপি) কথায় গরু মরে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়বে না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে। সরকারের পদত্যাগ করতে বাধ্য করবে। গতকাল ঠাকুরগাঁওয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনীতি করার পরিবেশ নেই, এ দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে। জবাবে বিএনপি সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নেতারা সব সময় সরকারের পতন কামনা করেন। কিন্তু শকুনের দোয়ায় যেমন গরু মরে না, তেমনি বিএনপির দোয়ায়ও সরকারের পতন হবে না।

দেশে এখন ভয়ঙ্কর নৈরাজ্য ও দুঃশাসন চলছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবৃতিতে বলেছেন, মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে এবং জনগণের ভোটাধিকারকে পদদলিত করে দেশে একচ্ছত্র ও এক ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার কর্তৃত্ববাদী শাসন বলবৎ রাখা হয়েছে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করে মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতনের খড়গ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠী দেশের বিরোধী দলগুলোকে ধ্বংস করার সুপরিকল্পিত অংশ হিসেবেই বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা দায়ের এবং গ্রেফতার করে কারান্তরীণ করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের এই ধারাবাহিক নিপীড়ন-নির্যাতন-উৎপীড়ন চলে আসছে। আদালতকে দিয়ে মিথ্যা মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের জামিন পাওয়ার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে বর্তমান গণধিকৃত সরকার। আমরা এখন আওয়ামী ঠগীদের মুল্লুকে বাস করছি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব বলেছেন, আন্দোলনে এই সরকারের পতন হবে। গত একযুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি মহাসচিব তাদের হতাশ নেতাকর্মীদের চাঙা করতে এমনটা বলে আসছেন। সরকারপতনের লক্ষ্যে তারা কখনো শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলন, কখনো ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন এবং কখনো শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ওপর ভর করেছেন। কিন্তু সরকারের পতন ঘটাতে পারেননি তারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূরদর্শী বলেই সংকট মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশই এই সংকট মোকাবিলা করছে এবং আগামীতে এ সঙ্কট গভীরতর হলে তা কীভাবে মোকাবিলা করবে তার দিশা খুঁজছে। বিএনপি মহাসচিবের কাছে প্রশ্নÑ বিশ্বের সব দেশের প্রধানমন্ত্রীই কি তাহলে পদত্যাগ করবেন? বাংলাদেশ তো বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ নয়। বিশ্বব্যাপী এ সঙ্কট আমাদের সৃষ্ট না হলেও তার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়েছে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আগামী বছর থেকে বিশ্বমন্দার আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূরদর্শী বলেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলেছেন এবং বেশি বেশি খাদ্য উৎপাদনের কথা বলেছেন। কিন্তু অপরিণামদর্শী বিএনপি নেতারা বৈশ্বিক সঙ্কটের বাস্তবতা অনুধাবন না করেই গলার জোরে কথা বলছেন এবং জনগণের কষ্টকে পুঁজি করে রাজনীতি করার অপচেষ্টা করছেন।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, সরকারি ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো’ ঘোষণা করায় নাকি বড় সর্বনাশ হয়েছে। জনগণের বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে নাকি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব হয়তো জানেন না, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, কোরিয়া, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোগুলো চিহ্নিত করা আছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হচ্ছে সরকার কর্তৃক ঘোষিত এইরূপ কোনো বাহ্যিক বা ভার্চুয়াল তথ্য পরিকাঠামো, যা কোনো তথ্য-উপাত্ত বা কোনো ইলেকট্রনিক তথ্য নিয়ন্ত্রণ, প্রক্রিয়াকরণ, সঞ্চরণ বা সংরক্ষণ করে এবং যা ক্ষতিগ্রস্ত বা সংকটাপন্ন হলে জননিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বা জনস্বাস্থ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা বা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং ওই পরিকাঠামোসগুলোর নিরাপত্তা সামান্য বিঘ্নিত হলে তা রাষ্ট্র ও জনগণেরই ক্ষতির কারণ হবে।

জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ময়মনসিংহে বিএনপির সমাবেশকে বাধা দিতে আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচির ডাক দেওয়া থেকে প্রমাণ হয়, তারা কখনো গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা সব সময় সন্ত্রাস সৃষ্টি করে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার কাজ করেছে। আর তা রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা নিয়েই করছে। যার ফলে রাষ্ট্রকে তারা একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। তবে বিএনপি থেমে থাকবে না। কোনো বাধাই বিএনপিকে থামাতে পারবে না।

%d bloggers like this: