ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ রি-পাওয়ারিংএ ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে,৬ বছরেও আলো জ্বলছে না


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৫, ২০২২, ৮:১০ পূর্বাহ্ণ /
ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ রি-পাওয়ারিংএ ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে,৬ বছরেও আলো জ্বলছে না

১ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৬ বছরেও ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ রি-পাওয়ারিং প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ শেষ হয়নি। চলতি বছর জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় সংশোধনীতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ এক বছর ৬ মাস প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ২১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযুক্ত হবে। কাগজ কলমে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি দেখানো হচ্ছে ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। আসলে বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন।

বাস্তবে এ প্রকল্পের বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। সে কারণে আবারো ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ছে ১৪২ কোটি ২০ লাখ ৮১ হাজার টাকা। অর্থাৎ মূল ব্যয়ের তুলনায় ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। সেই সঙ্গে সময় বাড়ছে ১ বছর ৬ মাস। শুরু থেকেই প্রকল্পে ধীরগতি বিরাজ করছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৬ বছরে প্রকল্পটিতে খরচ ১ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এবিষয়ে ঘোড়াশাল ৪র্থ ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আ: বাছিদ বলেন, কাজ শেষ না হওয়ায় এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছর ৬ মাস মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঋণ চুক্তির অনুমোদিত মেয়াদ ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত। বেশ কয়েকবার আলোচনা ও পর্যালোচনা করে সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে বিশ্বব্যাংক সম্মত হয়েছে। চুক্তির মেয়াদের মধ্যেই এলটিএসএ এর বিপরীতে বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকা ব্যবহার করতে হবে, তাই এলটিএসএ চুক্তি চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে করতে না পারলে বিশ্বব্যাংকের অব্যয়িত অর্থ ফেরত যাবে। এলটিএসএ কাজটি প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত নেই। তাই ক্রয় প্রস্তাব ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদের আগেই পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন নেয়া প্রয়োজন।

প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ২ হাজার ২৯ কোটি ২৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২ হাজার ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এখন ১৪২ কোটি ২০ লাখ ৮১ হাজার টাকা বাড়িয় মোট ব্যয় প্রস্তাব ২ হাজার ১৭১ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। যখন এটি অনুমোদন দেওয়া হয় তখন বাস্তবায়নকাল ছিল ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত। এরপর ব্যয় বৃদ্ধি করে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত একবছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু এতেও কাজ শেষ না হওয়ায় এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছর ৬ মাস মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পের সংশোধনী দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করি ভালোভাবে যাচাইবাছাই করতে। বাস্তব পরিপ্রেক্ষিতে এবং একান্ত প্রয়োজন হওয়ায় পরিকল্পনা কমিশন সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। তবে প্রকল্পের বারবার সংশোধনী কোনভাবেই কাম্য নয়।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও ২০৪১ সাল নাগাদ দেশের সম্ভাব্য বিদ্যুৎ চাহিদা (৫০ হাজার ৯৭৯ মেগাওযাট) পূরণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার শক্তিশালী অবকাঠামো উন্নযনের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ১৯৮৯ সালে স্থাপিত ঘোড়াশাল চতুর্থ স্টিম টারবাইন ইউনিটকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে রি-পাওয়ারিং করে প্ল্যান্টটিকে ৪০৩.৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য ২০১৬ সালের ৮ মার্চ একনেক সভায় প্রকল্পটির মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট পরিকল্পনামন্ত্রী প্রকল্পের প্রথম সংশোধন অনুমোদন দেয়া হয়।

বর্তমানে বাস্তব অবস্থার জন্য প্রকল্পের কার্যপরিধিতে দু’টি নতুন অঙ্গ অন্তর্ভুক্তি, কয়েকটি অঙ্গের প্রাক্কলিত ব্যয় সমন্বয় এবং প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর ৬ মাস বৃদ্ধি করে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে প্রকল্পের কিছু অঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধি, প্রকল্পের রাজস্ব খাতের বিভিন্ন অঙ্গে অফিসারের বেতন, কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, জ্বালানি এবং অফিস ফার্নিচার ও খুচরা যন্ত্রাংশ, কাস্টমস ডিউটি, কর ও ট্যাক্স খাতে ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পূর্তকাজ (অনাবাসিক), পরামর্শক সেবা, আইডিসি, ফিজিক্রার কন্টিনজেন্সি এবং প্রাইস কন্টিনজেন্সি অঙ্গে ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। এসব ব্যয় সমন্বয় করে উন্নযন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে বিদ্যমান স্টিম টারবাইনের সংশোধন কাজের জন্য খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং ওভারহোলিং কাজ এবং গ্যাস টারবাইনের এলটিএসএ (লং টার্ম সার্ভিস এগ্রিমেন্ট) এর আওতায় খুচরা যন্ত্রাংশ ও কনজিউমেবলস সরবরাহ এই দু’টি নতুন অঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্টিম টারবাইনের সংশোধন কাজের যন্ত্রাংশ কেনা, সংশোধন কাজ শেষ করা, কম্বাইন্ড সাইকেলের প্রি-কমিশনিং ও কমিশনিং এবং পারফরমেন্স গ্যারান্টি টেস্ট সম্পন্ন করা ইত্যাদি কারণেও দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তবনায় বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ২১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযুক্ত হবে। গ্রাহক পর্যায়ে মানসম্মত, নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ ও সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

এ প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে বলা হয়, সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন পদ্ধতি অনুযায়ী মোট ব্যয়ের অনুর্ধ্ব ৫ শতাংশের মধ্যে নতুন কোনো অঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করলে পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন দিতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে এলটিএসএ এর ব্যয় মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৫ শতাংশের অধিক। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এলটিএসএ এর ক্রয় প্রস্তাব সিসিজিপি এর অনুমোদনের জন্য বিশেষ বিবেচনায় পরিকল্পনা কমিশনের আগের অনুমোদন পাওয়া গেলে সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করে।

%d bloggers like this: