রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনটি কি গণতান্ত্রিক


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ১৭, ২০২৩, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ /
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনটি কি গণতান্ত্রিক

স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়া পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ দুই ধরনের সরকারব্যবস্থায় শাসিত হয়ে আসছে। এর একটি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা আর অপরটি হচ্ছে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সরকারপ্রধান এবং তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সভাপতিত্ব করে থাকেন। অপর দিকে, সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রধান এবং রাষ্ট্রপতির অনুরূপ তিনিও মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করে থাকেন। সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি আলঙ্কারিক। উভয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করে থাকেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগরে যে অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়েছিল সেটি ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার এবং সে সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয় এবং তিনি রাষ্ট্রপতি পদ হতে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী আনয়নপূর্বক ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ সালে ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পুনঃপ্রধানমন্ত্রী পদ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রত্যাবর্তন করেন এবং এ সংশোধনীতে এমন বিধান করা হয় যে, তিনি আমৃত্যু রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকবেন।

১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর দুর্ভাগ্যজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর পরও রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আনয়ন অবধি ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ সাল থেকে অদ্যাবধি সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রবর্তন পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতির আদেশে দেশ শাসিত হতো। সংবিধান প্রবর্তন পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য কোনো বিধানাবলি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভ‚ত হয়নি। সংবিধান প্রণয়ন পরবর্তী ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ সাল অবধি এ দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা চালু ছিল এবং তখন সংবিধানে উল্লেখ ছিল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দ্বিতীয় তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলি অনুযায়ী সংসদ সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন। সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলটি চতুর্থ সংশোধনীতে বিলুপ্ত করা হয়। দ্বিতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের ভোটদান বিষয়ে বলা ছিল ভোটদাতাকে শনাক্ত করা যায় ভোটপত্রে এমন কোনো নাম, শব্দ বা চিহ্ন থাকলে সে ভোটপত্র বাতিল হবে। এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে, ভোটদান পর্বটি গোপন ভোটপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী আনয়নের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে যে বিধান করা হয় তাতে বলা হয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী নির্বাচিত হবেন। এ বিধানটি সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধন আইন, ১৯৯১ কার্যকর অবধি বহাল ছিল। দ্বাদশ সংশোধনী আনয়নের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে চতুর্থ সংশোধনী পূর্ববর্তী যে বিধান ছিল সে বিধানটি কার্যকর করা হয়, তবে দ্বিতীয় তফসিলটি পুনর্জীবিত না করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ নামে একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ সংবিধান দ্বাদশ সংশোধন আইন, ১৯৯১ কার্যকর করার তারিখ থেকে বহাল করা হয়। দ্বাদশ সংশোধন আইনটি ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ সাল কার্যকর হয় এবং এর আলোকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ একই তারিখ থেকে বলবৎ হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ রহিত করা হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এ প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপন ভোটদান পত্রে ভোট প্রদানের বিধান ছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ বহাল থাকাকালীন এ অধ্যাদেশের অধীন তিনটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রথমটিতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে শহীদ জিয়াউর রহমান, দ্বিতীয়টিতে বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ও তৃতীয়টিতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন। উপরোক্ত তিনটি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে কোনো নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে পারেননি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ কার্যকর পরবর্তী এ আইনের অধীনে পাঁচটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এসব নির্বাচনে প্রথমটি ব্যতীত অপর কোনোটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণের আবশ্যকতা দেখা দেয়নি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এর বিধান অনুযায়ী সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সে নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তা হিসেবে নির্বাচন অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকেন। এ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র আহ্বান, মনোনয়নপত্র দাখিল, মনোনয়নপত্র পরীক্ষাকরণ এবং ভোটগ্রহণসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ নির্বাচন কমিশন সমাধান করে থাকে।

ভোটগ্রহণ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এ সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যগণের প্রকাশ্য ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ আইনের অধীনে কোনো নির্বাচনে প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি মাত্র ভোট থাকবে এবং প্রত্যেক ভোটার তার জন্য নির্দিষ্ট ভোটপত্রের কাউন্টার ফয়েলে নিজ নাম স্বাক্ষর করে ভোটপত্র সংগ্রহ করবেন। অতঃপর এর আউটার ফয়েলে তিনি যে প্রার্থীকে ভোট প্রদান করবেন তার নামের বিপরীতে নির্দিষ্ট স্থানে নিজের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট প্রদান করবেন এবং উহা সংরক্ষিত ভোট বাক্সের অভ্যন্তরে রাখবেন।

১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান প্রণয়নকালে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বিধান করা হয় যে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন তা হলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদটি চতুর্থ ও দ্বাদশ সংশোধনী দ্বারা দু’বার প্রতিস্থাপিত হয়। প্রথমবার প্রতিস্থাপনের সময় ৭০ অনুচ্ছেদের সাথে দলের বিপক্ষে ভোটদানের ব্যাখ্যা সংযোজন করা হয় এবং দ্বিতীয়বার প্রতিস্থাপনের সময় ৭০ অনুচ্ছেদে দফা (২) ও (৩) সন্নিবেশন করা হয়। উপরোক্ত প্রতিস্থাপন কোনোভাবেই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের (১) দফায় বর্ণিত রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়ার বিধানের মৌলিকত্বকে ক্ষুণ্ণ করেনি।

সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যরা কোনো বিল বা প্রস্তাবের স্বপক্ষে বা বিপক্ষে যখন ভোটদান করেন তখন প্রকাশ্যে হাত উত্তোলনকরত ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ধ্বনি ব্যক্ত করার মাধ্যমে ভোটদান করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এ সংসদ সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতি প্রবর্তন করায় অনেক সংবিধান বিশেষজ্ঞের দাবি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মৌলিকত্ব ও চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্যই প্রকাশ্য ভোটদানের এ বিধান। তবে অনেক সংবিধান বিশেষজ্ঞের অভিমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রকাশ্য ভোটদান পদ্ধতিকে কোনোভাবে ৭০ অনুচ্ছেদের মৌলিকত্ব ও চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবা সমীচীন হবে না এ কারণে যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশ্লেষে সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলে যে বিধান করা হয়েছিল সেখানে গোপন ভোটদান পত্রের মাধ্যমে ভোট প্রদানের কথা বলা হয়েছিল। তাই, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে ভোটদান পদ্ধতি প্রকাশ্য বা গোপন যা-ই হোক না কেন এটি সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদের মৌলিকত্ব ও চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বা সাংঘর্ষিক এ দু’টির কোন্টি সঠিক তা নিরূপণ করা দুরূহ। তবে এ কথা ঠিক একজন সংসদ সদস্য যে দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে যদি তার সদস্য পদ হারান সে ক্ষেত্রে এটি যে গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কুঠারাঘাত তাতে কোনো সংশয় নেই।

সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি আলঙ্কারিক হওয়ায় রাষ্ট্রপতি দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকেন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও নির্বাচন পরবর্তী তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে তার নির্বাচনী এলাকার সব জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন।

একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরবর্তী দেশের সব জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। এখানে কে তাকে ভোট দিয়েছে এবং কে ভোট দেয়নি সেটি অনাবশ্যক। অনুরূপভাবে প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী হিসেবে যারা নিয়োগপ্রাপ্ত হন তারা সংসদ সদস্য হিসেবে একটি নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করলেও নিয়োগ পরবর্তী সমগ্র দেশবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় গোপন ভোটপত্রের মাধ্যমে ভোটপ্রদানের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে বিজয়ী বা বিজিত কোনো প্রার্থী যেন নিশ্চিতভাবে জানতে না পারে কে তাকে ভোট দিলো এবং কে তাকে ভোট দিলো না। রাজনীতির সাথে যারা সরাসরি সম্পৃক্ত তারা যে দলের সমর্থক তাদের ভোট যে সে দল অথবা দলের প্রার্থীর পক্ষে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ভোটাধিকারপ্রাপ্ত আমাদের জনগণের এক বৃহদংশ কোনো দলের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার, কর্মসূচি, সরকারে থাকাকালীন কর্মকাণ্ড এবং একজন প্রার্থীর ব্যক্তিগত গুণাগুণের মূল্যায়নপূর্বক জনগণের এ অংশটি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকে। মূলত জনগণের এ অংশটির ভোটাধিকারের ওপর নির্ভর করে নির্বাচনে একটি দলের এবং দলের প্রার্থীর জয় বা পরাজয়। পৃথিবীর কোনো দেশ ও সমাজে জনমত স্থিতিশীল নয়। জনমতের ওপর দেশের বা সমাজের যে অংশটির প্রভাব ব্যাপক সে অংশটিকে সন্তুষ্ট করার মধ্যেই নিহিত থাকে দল বা প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের গূঢ় রহস্য।

একজন রাষ্ট্রপতি, একজন প্রধানমন্ত্রী, একজন মন্ত্রী বা একজন সংসদ সদস্যের কাছে জনগণ কখনো পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ প্রত্যাশা করে না। যদিও রাজনীতিকদের গুণগত মান নিম্নমুখী হওয়ায় দলীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের আচরণে পক্ষপাতদুষ্টতা স্পষ্ট কিন্তু সে পক্ষপাতদুষ্টতা রাষ্ট্রপতির মধ্যে সংক্রমিত হওয়া প্রত্যাশিত নয়। এ প্রত্যাশার জায়গাটিতে যেন কোনো ধরনের চিড় না ধরে সে জন্য প্রত্যক্ষভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেমন গোপন ভোটপত্রের মাধ্যমে ভোটদান পর্ব সম্পন্ন হয় ঠিক তেমন পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও গোপন ভোটদান পত্রের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ বাঞ্ছনীয়। আর এটি নিশ্চিত করা গেলেই রাষ্ট্রপতি নামক প্রতিষ্ঠানটির নিরপেক্ষতা, স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পথ তুলনামূলকভাবে স্বল্প প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে এবং এর পাশাপাশি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদধারীর নির্বাচন পদ্ধতি কালিমার আচ্ছন্নতা হতে বিমুক্ত হবে।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com

%d bloggers like this: