মিটার তৈরি নয় যেন টাকা পাচারের ফ্যাক্টরিই ‘বেসিকো’


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২২, ২০২৩, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ /
মিটার তৈরি নয় যেন টাকা পাচারের ফ্যাক্টরিই ‘বেসিকো’

স্টাফ রিপোর্টা ।। দেশের বিদ্যুৎ খাত ডিজিটালাইজেশনে স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার সংযোজনে কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে বেশ আগেই। এই মিটার তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ স্মার্ট ইলেক্ট্রিক্যাল কোম্পানিকে (বেসিকো)। কিন্তু সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি সে পথে হাঁটেনি। তারা মিটার তৈরি না করে চীন ধেকে আমদানি করে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ চালিয়ে দিয়েছে। আর রেডিমেইড মিটার আমদানির জন্য ব্যাংকে যে অংকের এলসি খোলা হয়েছে, সেই সংখ্যক মিটার বা যন্ত্রাংশ দেশে আসেনি। মিটার ক্রয়ের জন্য চুক্তিবহির্ভূত ও মিথ্যা ডিক্লারেশনে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে কোম্পানিটি।

বেসিকোর অনিয়ম-দুর্নীতির ডালপালা ছড়িয়েছে চারপাশে। ভিত্তিহীন বাজেট তৈরি, মালামাল ক্রয়ে সরকারি নিয়ম অমান্য, স্বাক্ষর স্ক্যান করে বোর্ড সভার ভুয়া কার্যবিবরণী তৈরি, ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকি, সার্কুলার ছাড়া নিয়োগ, ফ্যাক্টরি ও আবাসিক ভবনের ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ, জাল স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা হন্তান্তরসহ লাগামহীন দুর্নীতির কারণে গত দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে কোম্পানিটি। তবে কোম্পানি বন্ধ থাকলেও দুর্নীতিতে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিদ্যুৎ খাতকে ডিজিটালাইজেশনের জন্য স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার সংযোজনে ব্যয় সাশ্রয় করতে ২০১৮ সালে দেশেই মিটার তৈরির নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) পক্ষ থেকে খুলনায় মিটার তৈরির কারখানা তৈরির প্রস্তাব করা হয়।

২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর নিবন্ধিত হয় কোম্পানি। এর ৫১ শতাংশ মালিকানা ওজোপাডিকো এবং ৪৯ শতাংশ চায়না হেক্সিংয়ের। শুরুতে কোম্পানির নাম ছিল বাংলাদেশ স্মার্ট প্রিপেইড কোম্পানি। পরে নামকরণ হয় বাংলাদেশ স্মার্ট ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি। ২০২০ সালে শুরু হয় বাণিজ্যক কার্যক্রম। এক বছরের মাথায় ধারাবাহিক অনিয়মের কারণে কোম্পানি বন্ধ রাখে পরিচালনা পর্ষদ।

শর্ত ভঙ্গ করে রেডিমেইড মিটার আমদানি:

বেসিকোর মিটার তৈরির ব্যাপারে ২০১৯ সালের ৩০ মে তৎকালীন বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়, ‘মিটার অবশ্যই বাংলাদেশে অ্যাসেম্বল করে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।‘ ২০২০ সালে ওজোপাডিকোর আওতাধীন যশোর এলাকায় ৬৯ হাজার ১৬০টি মিটার সরবরাহের অর্ডার পায় বেসিকো। এর বিপরীতে ওই বছরের ৫ ও ১৪ মে দুটি এলসি খুলে ২০ লাখ ১১ হাজার ৬৬০ ডালারের বিনিময়ে চীন থেকে রেডিমেইড মিটার আমদানি করা হয়। সরবরাহের সময় সেই মিটারে ‘সার্টিফিকেট অফ কান্ট্রি অফ অরিজিন’-এ বলা হয়, ‘ম্যানুফ্যাকচার্ড বা আস ইন বাংলাদেশ’। এর মাধ্যমে সরাসরি শর্ত ভঙ্গ করা হয়।

দেশে স্মার্ট মিটারের যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১০ শতাংশ ও রেডিমেইড মিটার আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। বেসিকোর আমদানি করা রেডিমেইড মিটারের জন্য ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়েছে, যাতে আর্থিকভাবে লোকসান হয় বেসিকোর। ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর বেসিকো থেকে ওজোপাডিকোতে পাঠানো পত্রে দেখা যায়, শর্ত ভঙ্গ করে তারা চীন থেকে সরাসরি মিটার আমদানি করেছে। ওজোপাডিকো সূত্র জানায়, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) ওইসংখ্যক মিটার কিনলে তাদের প্রায় ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হতো।

সেবা খাতের ক্রয়ে কোটি কোটি টাকা পাচার:

২০২০ সালের ২৫ অক্টোবরে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঢাকার গুলশান শাখায় একটি এলসি খোলে বেসিকো। ওজোপাডিকোর সঙ্গে মিটার বিক্রির চুক্তিতে বিভিন্ন সেবা খাতের জন্য এই এলসি খোলা হয়। ওই এলসির এক নম্বর ছিল এমডিএম ও হেস (এইচইএস) সিস্টেম সফটওয়্যার বাবদ ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকার। তবে ওই সফট্যাওয়ারটি ওজোপাডিকোর কাছে বিক্রির জন্য বেসিকো চুক্তি করেছিল ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা এলসি করে চীনে পাচার করা হয়েছে।

হেস সিস্টেম হলো বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারের ডাটা মূল সার্ভারে পাঠানোর একটি সফটওয়্যার। যদিও ইতোপূর্বে এ ধরনের সফটওয়্যার আইডিয়াল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকোকে মাত্র ৫৮ লাখ ৬২ হাজার টাকায় সরবরাহ করেছিল। এই সফট্যাওয়ারটি পুনরায় কেনার জন্য ওজোপাডিকোর বোর্ড সভায় কখনও অনুমোদন করা হয়নি। তারপরও বেসিকোর সঙ্গে সফটওয়্যারটি কেনার জন্য চুক্তি করে ওজোপাডিকো।

বেসিকো’র পক্ষ থেকে ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় হেস সিস্টেম আমদানি দেখানোতে ঢাকা কাস্টমস অথরিটি ভ্যাট বাবদ ৬ কোটি ২০ লাখ টাকার চাহিদা ইস্যু করে। এর ফলে মাত্র ৫৮ লাখ ৬২ হাজার টাকার একটি হেস সিস্টেম কিনতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

শুধু তাই নয়, বেসিকো থেকে ওই হেস সিস্টেমটি ওজোপাডিকোকে সরবরাহ করার পর সোর্স কোডসহ যাবতীয় ডাটাবেজ হস্তান্তর করা হয়নি। এ কারণে হেস সিস্টেমে কোনো ত্রুটি হলে ওজোপাডিকোর কিছুই করার থাকবে না। তবে আইডিয়াল ইলেক্ট্রনিক এন্টারপ্রাইজ থেকে যে হেস সিস্টেমটি ওজোপাডিকোকে সরবরাহ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে সোর্স কোড ও ডাটাবেজ হস্তান্তর করা হয়েছিল।

২০২১ সালের ২৪ অক্টোবরে ওজোপাডিকোর প্রি-পেইড মিটারিং প্রকল্পের পরিচালকের এক পত্রে বলা হয়েছে, বেসিকোর হেস সিস্টেমের সোর্স কোড, ডাটা ফ্লো ডায়াগ্রাম, ডাটাবেজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। ওই এলসির দুই নম্বরে রয়েছে হেস সিস্টেম স্টেস্টিং ও ইনস্টলিং বাবদ ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। যদিও হেস সিস্টেমের সঙ্গে স্টেস্টিং ও ইনস্টলিং যুক্ত থাকে। আলাদা করে এই খাতে অর্থ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ টাকার পুরো অংশই পাচার হয়েছে।

এলসির তিন নম্বরে রয়েছে প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট সার্ভিস বাবদ ৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। যদিও ওজোপাডিকোর সঙ্গে বেসিকোর চুক্তিতে এ বাবদ কোনো অর্থের উল্লেখ নেই। বেসিকো তার নিজস্ব টেকনিক্যাল লোকবল দিয়ে মিটার স্থাপন ও ফ্যাক্টরিতে উৎপাদনের কথা ছিল। যারা টেকনিকাল পার্সন হিসেবে চীন থেকে এসেছেন তারা বেসিকো থেকে বেতন নিয়ে কাজ করেছেন। ফলে এ ক্ষেত্রে আলাদা কোনো অর্থ দেয়ার সুযোগ নেই। এভাবে পুরো টাকাটাই পাচার হয়েছে।

এলসির চার নম্বরে রয়েছে বিদেশ প্রশিক্ষণ বাবদ ২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। যদিও এ খাতে ওজোপাডিকোর সঙ্গে বেসিকোর চুক্তি ছিল ৪২ লাখ টাকা। তবে বাস্তবে ওজোপাডিকোর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়নি। এভাবে প্রশিক্ষণের নামেও বিদেশে টাকা পাচার করা হয়েছে।

এলসির পাঁচ নম্বরে রয়েছে মিটারের তিন বছর ওয়ারেন্টি বাবদ ৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। ভুল অজুহাতে এ খাতের টাকাটাও বিদেশে পাচার করা হয়েছে।এলসির ছয় নম্বরে রয়েছে হেস সিস্টেম তিন বছরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। তবে এই বাবদ ওজোপাডিকোর সঙ্গে  বেসিকোর চুক্তি ছিল ৩২ লাখ টাকা। সে হিসাবে অতিরিক্ত ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

ব্যাংকে এই এলসি খোলা হয়েছিল বেসিকোর অর্থ পরিচালক আব্দুল মোতালেব ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ে ওয়েনজুনের যৌথ স্বাক্ষরে। তবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ছেড়ে যান ওয়েনজুন। বাংলাদেশে তার অনুপস্থিতিতেই ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি এলসিগুলোর বিল দেয়া হয় তার জাল স্বাক্ষরে।

এছাড়াও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) সঙ্গে ২০২০ সালের ১১ জুন বেসিকোর ২০ হাজার মিটার বিক্রির চুক্তি হয়। এ চুক্তির বিভিন্ন সেবা খাত দেখিয়ে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের খুলনা শাখা থেকে ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর ৩ কোটি ২২ লাখ টাকার এলসি খোলা হয়। তার মধ্যে ছিল মিটার ইন্টিগ্রেশন, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, মিটার ওয়ারেন্টি ও ট্রেনিং; যাতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল না। এমনকি মিটার ক্রয়ের জন্য এসব খাতে অর্থ প্রদানের সুযোগ নেই। এসব টাকা পাচার না হলে বেসিকোর ৩৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বেশি লাভ হতো।

ওজোপাডিকোর এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এই অর্থ পাচারের সঙ্গে বেসিকোর অর্থ পরিচালক আব্দুল মোতালেব এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ে ওয়েনজুন ও রুলং ওয়াংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব অর্থ পাচার করে তারা মানি লডারিং-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

আমদানির পরিবহন খাতেও অর্থ পাচার:

বেসিকোর পক্ষ থেকে মোট এক লাখ ৯০ হাজার মিটার বা তার যন্ত্রাংশ আমদানির পরিবহন খরচ বাবদ বিভিন্ন সময়ে প্রিমিয়ার ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে এলসি খোলা হয়েছে। এ বাবদ মোট টাকা ব্যায় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। তবে ওজোপাডিকোর নীরিক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংখ্যক মিটার আমদানিতে পরিবহন বাবদ ৩৭ লাখ টাকার বেশি কোনোভাবেই খরচ হতে পারে না। এখান থেকেও কমপক্ষে এক কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

দুই প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন দামে মিটার বিক্রি:

ওজোপাডিকো ও ডিপিডিসি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বেসিকো’র কাছ থেকে মিটার কিনেছে। তবে বেসিকো প্রতিটি সিঙ্গেল ফেজ মিটার ডিপিডিসিকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় ও ওজোপাডিকোকে ৫ হাজার ৮৮৯ টাকায় বিক্রি করেছে। সে হিসাবে ডিপিডিসি থেকে ওজোপাডিকো’র কাছে মিটার প্রতি এক হাজার ৩৮৯ টাকা করে বেশি নিয়েছে।

সূত্র জানায়, ওজোপাডিকো বেসিকোর কাছ থেকে এক লাখ ৬৬ হাজার প্রি-পেইড মিটার ক্রয় করেছে। এই হিসাবে বেসিকো অতিরিক্ত লাভ করেছে ২৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। যদিও বেসিকো লাভ বাবদ তাদের বাজেট দেখিয়েছে মাত্র ৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।ওজোপাডিকোর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা

হীন বাজেট প্রণয়ন:

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বেসিকোর ৭তম বোর্ড সভায় যে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছিল তার বাস্তবসম্মত ভিত্তি নাই। যথাযথভাবে বাজেট প্রণয়ন করলে বেসিকোর ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা টাকা লাভ হতো। অথচ তাদের লাভ দেখানো হয়েছে মাত্র ৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বাজেটে তারা মালামাল ক্রয়ে যথাযথ অনুমোদন নেয়নি। কারণ তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থ পাচার।

মালামাল ক্রয়ে সরকারি নিয়ম অমান্য:

বেসিকো সরকারি কোম্পানি হিসেবে ওজোপাডিকো ও ডিপিডিসিকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) মিটার সরবরাহ করেছে। তবে এসব মিটার বা যন্ত্রাংশ ক্রয়ে বেসিকো সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) অনুসরণ করেনি। বরং বেসিকোর শেয়ারের অংশীদার হেক্সিং থেকে বিভিন্ন মালামাল বেশি দামে কেনা হয়েছে। বেসিকোর ৫১ শতাংশ মালিক ওজোপাডিকো। আর বেসিকোর ব্যবস্থাপনায় ওজোপাডিকো’র কর্মকর্তারা থাকা সত্ত্বেও হেক্সিংয়ের স্বার্থ সুরক্ষা হয়েছে।

নিয়োগে অনিয়ম:

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোন ধরনের নিয়ম নীতি না মেনে নিজেদের ইচ্ছামতো কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে বেসিকোতে। এক্ষেত্রে নিয়োগের কোনো সার্কুলার দেয়া হয়নি। নিজেদের পছন্দের লোকবল নিয়োগের জন্য জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহ করে মেধা তালিকা প্রস্তুত করা হলেও তার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়নি। অনেকে মেধা তালিকা প্রস্তুতের পরীক্ষায় হাজির না হয়েও নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া এই নিয়োগের ব্যাপারে বোর্ডের কোনো অনুমোদন নেই।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

খুলনার রূপসা সেতুর বাইপাস সড়কের মোহাম্মদনগর এলাকার মৃধা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ ইলেক্ট্রিক্যাল কোম্পানির (বেসিকো) একমাত্র ফ্যাক্টির ও মূল কার্যালয়। সম্প্রতি ফ্যাক্টির ঘুরে দেখা গেছে পিনপতন নীরবতা। মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া সেখানে কেউ নেই। বেসিকোর প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিক উদ্দিন ২০২২ সালের ২ মে অবসরে যান।

বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফিজুল বারী বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানটি হলো অর্ডার বেইজড কোম্পানি। কিছুদিন আগে ডেসকো থেকে কিছু অর্ডার পেয়েছিলাম। তা সরবরাহ হয়ে গেছে। সামনে কিছু অর্ডার পেতে পারি। সেই প্রস্তুতি চলছে।’

কোম্পানিটির আগের কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি নিয়ে তিনি কথা বলতে চাননি। প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘দেখুন সে সময়ে আমি ছিলাম না। আর সে সম্পর্কে কিছু জানলেও বলতে চাই না।’

ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্বের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আমি অবগত আছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থার কার্যাবলী প্রক্রিয়াধীন।’

বেসিকো’র বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, ‘কোম্পানিটি সচল রাখতে আমরা কিছু অর্ডার দেয়ার পরিকল্পনা করেছি। ওই অর্ডারগুলো পেলে তাদের কর্মকাণ্ড সচল হবে।’

%d bloggers like this: