৪ কোটি টাকার ঘাস এক সপ্তাহেই মরে গেল!


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৪, ২০২৩, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ /
৪ কোটি টাকার ঘাস এক সপ্তাহেই মরে গেল!

নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘির মাঠ চার কোটি ১৭ লাখ টাকা খরচ করে নতুন রূপ দিয়েছে সরকার। মাঠের চারপাশ সাজানো ও ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে মঞ্চ। মাঠে লাগানো হয়েছিল দামি ঘাস। সেই ঘাস উদ্বোধনের সপ্তাহ যেতে না যেতেই যথাযথ পরিচর্যার অভাবে মরে গেছে। এই সংস্কারকাজের জন্য প্রায় সাড়ে তিন বছর বন্ধ রাখা হয়েছিল মাঠটি।

গত ২ জানুয়ারি বিকালে ঐতিহাসিক লালদীঘির মাঠ সংস্কার শেষে সবার জন্য উন্মুক্ত করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তখন তিনি বলেছিলেনÑ মাঠটি সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের হলেও তার রক্ষণাবেক্ষণ করবে সিটি করপোরেশন। আর নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য দেবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। এ মাঠে বলীখেলা অনুষ্ঠিত হবে। তবে মাঠের ভেতরে মেলা বসতে পারবে না। মেলা মাঠের বাইরে বসবে। স্কুল চলার সময় বিদ্যালয়ের ছাত্ররা খেলতে পারবে। বিদ্যালয়ের সময়ের পর স্থানীয় শিশু-কিশোররাও খেলতে পারবে।

জানা যায়, চার কোটি ১৭ লাখ টাকার প্রকল্পে মাঠের উত্তর পাশে তৈরি করা হয়েছে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফুট প্রস্থের মুক্তমঞ্চ, ৩৪৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে ওয়াকওয়ে। মাঠে থাকা ১৮টি টেরাকোটায় ঠাঁই পেয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনী প্রচার, ৭ মার্চের ভাষণ, ৬ দফা আদায়ের দাবি আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ’৬২-এর ছাত্র আন্দোলন, ’৫৪-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর প্রচার, ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ, ভাষা আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের শহীদ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত ও মাস্টারদা সূর্যসেনের ম্যুরাল। মাঠের আরেক সীমানা দেয়ালে আছে সরকারের বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পের চিত্র।

মাঠকে সুরক্ষিত করতে দুই পাশে লোহার নিরাপত্তাবেষ্টনী, দুটি ২০ ফুটের সাধারণ ফটক, বসার জন্য ৩৯টি ১০ ফুটের বেঞ্চ, মাঠকে দৃষ্টিনন্দন করতে লাগানো হয়েছে বাদাম ও দেবদারু গাছ। এ ছাড়া মাঠে লাগানো হয়েছে দামি ঘাস। সোলার প্যানেল দিয়ে করা হয়েছে লাইটিং। সবই আছে, শুধুই দামি ঘাসগুলো মরে গেছে।

গত রবিবার বিকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মাঠে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা খেলছে। মাঠের মূল মঞ্চের দিকটায় লাগানো ঘাস একেবারে মরে গেছে। তবে শিশুদের জন্য তৈরি দোলনা বসানো অংশে অল্প কিছু ঘাস অর্ধমৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মৃত ঘাসের

ওপরেই শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করতে দেখা গেছে। মাঠের ঘাসগুলো জীবিত রাখার জন্য বসানো আছে পানির লাইন। কিন্তু কেউ বলতে পারেননি ঘাসগুলোতে নিয়মিত পানি দেওয়া হয় কিনা। মাঠ ঘুরে রক্ষণাবেক্ষণকারী কাউকে দেখা যায়নি।

সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র রাকিবুল হাসান আদেল বলে, যে দিন আমাদের মাঠটি উন্মুক্ত করেছিল, সেদিনই মাঠ সবুজ দেখছিলাম। এর এক সপ্তাহ পর যখন খেলতে আসি, তখন মাঠের ঘাসগুলো সবুজ থেকে লাল হয়ে যেতে দেখেছি। এখনো পুরোটাই লাল হয়ে সাদা রঙ ধারণ করেছে।

এ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নগরীর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, এখন শীতকাল হওয়াতে মাঠে লাগানো ঘাসগুলো সঠিক পানি ও পরিচর্চার অভাবে মরে যাচ্ছে। এ ছাড়া স্কুলের ছাত্ররা সেখানে প্রতিনিয়িত খেলাধুলা করে। তাই মাঠের ঘাসগুলো এখন মৃত। তবে ঘাস লাগাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সেটি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সঠিকভাবে বলতে পারবেন।

মাঠটি উদ্বোধনের সপ্তাহ না যেতেই ঘাসগুলো কেন মরে যাচ্ছে সে বিষয়ে জানতে কথা হয় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, লালদীঘি মাঠের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প প্রথম দিকে বাজেট ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। পরে সেখানে একটি ধস হয়। প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ কোটি ১৭ লাখ টাকায়। এটির ঐতিহাসিক দিক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেটিকে মনোযোগ সহকারে সাজানো হয়েছে।

বাজেটের মধ্যে মাঠে ঘাস লাগনোর জন্য কত টাকা খরচ হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমার মনে নেই। অল্পই লেগেছে ঘাস লাগানোর জন্য। সেটি খুবই সামান্য।

%d bloggers like this: