সামনে এক দফার দাবিতে কঠোর আন্দোলন : ড. ফরহাদ


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জানুয়ারি ২৫, ২০২৩, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ /
সামনে এক দফার দাবিতে কঠোর আন্দোলন : ড. ফরহাদ

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলন চললেও সামনে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি আসবে বলে জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়কারী ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তিনি বলেন, জনগণ ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো কোনো নির্বাচন এদেশে আর হতে দেবে না।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ফরহাদ। সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।

ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, মানুষ আজ খেতে পারে না। গ্যাস-বিদ্যুৎ পানিসহ নিত্যপণ্যের দাম আজ আকাশচুম্বী। সঙ্গে চলছে লুটপাট। লুটপাট করে এদেশের টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। দশ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী-নেতারা এই টাকা পাচার করেছে। কানাডায় বেগমপাড়া করেছে, সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া-দুবাইয়ে বাড়ি করেছে। এই টাকা আপনার-আমার-জনগণের। কিন্তু এই টাকার কথা বললে, লুটপাটের কথা বললেই দমন-পীড়ন-নির্যাতন শুরু হয়ে যায়। এভাবে দেশ চলতে পারে না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এদেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। ২০১৪ সালে বিনা ভোটে এবং ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করে জোর করে এই সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। সুতরাং শেখ হাসিনা তথা দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে, দেশ-বিদেশের কেউ এখন আর এ কথা বিশ্বাস করে না। তাই অবিলম্বে বর্তমান সংসদ বিলুপ্ত, নির্বাচন কমিশন বাতিল এবং শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের এই সমন্বয়কারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। জনগণ ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো কোনো নির্বাচন আর হতে দেবে না। পর্যায়ক্রমে এক দফা তথা শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি আসবে।

ড. ফরহাদ বলেন, এর আগে ২১ বছর পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। এবার ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলে একশ বছরেও আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

এনপিপির চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এদেশে বাকশাল থেকে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর ফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আবার আওয়ামী লীগ করার সুযোগ পান।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দেশব্যাপী আওয়ামী সন্ত্রাস, সরকারের দমন-নিপীড়ন-নির্যাতন, বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কমানোসহ ১০ দফা দাবিতে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী বিভাগীয় সদরে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়কারী ড. ফরহাদ।

এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- জাগপার একাংশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারি, গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান এমএন শাওন সাদেকী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, এনপিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য নবী চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব মো. ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

%d bloggers like this: